শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হলফনামা কেলেঙ্কারিতে সংসদ সদস্য পদ হারানোর মুখে হান্নান মাসুদ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এ অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে কি না।

সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, একটি টেলিভিশন টকশোতে হান্নান মাসুদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার হলফনামায় কিছু ‘অসত্য’ বা ‘অসঙ্গত’ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে হান্নান মাসুদ বলেন, তার আইনজীবী তাকে এমন তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে সুবিধা হয়।

রাশেদ আরও দাবি করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সময় হান্নান মাসুদ নিজেকে কোনো স্থাবর সম্পত্তির মালিক হিসেবে উল্লেখ করেননি। তার মতে, এতে হলফনামার তথ্যের সত্যতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর এক বক্তব্যের উল্লেখ করেন। সে সময় নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও কোনো প্রার্থীর হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ উঠলে নির্বাচন কমিশন তা তদন্ত করতে পারবে।

রাশেদের দাবি, নির্বাচন কমিশনার তখন আরও বলেছিলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। এ বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

নিজের পূর্ববর্তী মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, হান্নান মাসুদের হলফনামায় থাকা তথ্য যাচাই করলেই তার বক্তব্যের সত্যতা পরীক্ষা করা সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি হান্নান মাসুদ দাবি করেছিলেন যে তিনি তার স্ত্রীর সেমিস্টার ফি ‘মাহবুব ভাই’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার করা অর্থ দিয়ে পরিশোধ করেছেন। একই সঙ্গে নতুন বাড়ির জন্য ইট কিনলেও অর্থসংকটের কারণে ৩ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি বলেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন।

রাশেদ প্রশ্ন তোলেন, সংসদ সদস্য যে আর্থিক সংকট ও ব্যক্তিগত সততার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন, সেগুলোর পূর্ণ প্রতিফলন কেন তার নির্বাচনী হলফনামায় দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) নেতা হান্নান মাসুদ প্রায় ৯৮ লাখ টাকার সম্পদের মালিকানা এবং তার প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিল্যান্টি গ্লোবাল’ থেকে বছরে ৬ লাখ টাকা ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন।

নির্বাচনী নথিপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, তার ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের সম্পদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

এ বিষয়ে রাশেদ খানের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কারী আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, তিনি এখনো ওই ফেসবুক পোস্ট দেখেননি। পোস্টটি না দেখে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...