আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ডলার ১০ দিনের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি চলে আসায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দুর্বলতা সাধারণত স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করে। কারণ ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিও সেই প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে। নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নেতৃত্বে বুধবার প্রথমবারের মতো ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হলে স্বর্ণের বাজারে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সুদের হার কমলে সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিগত অবস্থান স্বর্ণবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশটি ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুদের হার বৃদ্ধি করেছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো জাপানও কঠোর মুদ্রানীতির পথ অনুসরণ করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এদিন মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৪২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে প্লাটিনামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৬২ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৩৩ দশমিক ১৩ ডলারে নেমে এসেছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, ডলারের গতিপ্রকৃতি, ফেডের সুদনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আগামী কয়েক দিনে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর বাজারের দিকনির্দেশনা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

