শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লা বোর্ডে ৮ কলেজে নেই একজনও এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তদন্তের ঘোষণা

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় আটটি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও অংশ নিতে পারছে না। চারটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী নিবন্ধন না করায় এবং বাকি চারটিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পরীক্ষার্থী থাকা আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলার এবং একটি ফেনী জেলার।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ফেনীর নোবেল কলেজ, কুমিল্লার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও সিসিএন মডেল কলেজ। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ থেকেও এবার কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে না।

চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ১৯৬ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৬০৬ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হলেও আটটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এছাড়া গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাসের হার থাকা ১৩টি কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। ফলে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেও এবার কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারছে না।

তিনি বলেন, ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নারী শিক্ষার অগ্রগতির ইতিবাচক দিক হলেও ছাত্রদের তুলনামূলক কম অংশগ্রহণের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সালে কলেজ শাখা চালুর পর এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তাদের কেউ পরীক্ষার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। আর্থিক সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তিতে কার্যকর প্রচারণার অভাবও এ অবস্থার জন্য দায়ী।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জামাল নাসের বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ শাখা চালু করলেও তা মানসম্মতভাবে পরিচালনা করতে পারছে না। ফলে শিক্ষার মান কমছে, আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে কলেজ প্রতিষ্ঠা, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা গেলে এমন পরিস্থিতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শূন্য পরীক্ষার্থী থাকা কলেজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

সাব্বির, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন...

এসএসসির খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন, আসছে নীতিমালা

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য ১২ লাখের...

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ১ লাখ ২৩ হাজার বেসরকারি শিক্ষককে অবসর-কল্যাণ ভাতা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন...

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা...