শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফুলকে নিয়ে মেঘের দেশে

ভ্রমণেরও কিছু গল্প থাকে। কিছু গল্প পাহাড়ের, কিছু গল্প মেঘের, আর কিছু গল্প ভালোবাসার। আমার সাজেক ভ্রমণের গল্পটি এই তিনেরই অপূর্ব মেলবন্ধন। কারণ সেই যাত্রায় আমার সঙ্গী ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ আমার ,ফুল।

সাজেক যাওয়ার স্বপ্ন অনেক দিনের। ছবিতে দেখেছি মেঘের সমুদ্র, পাহাড়ের বুক চিরে চলে যাওয়া পথ আর সূর্যোদয়ের মায়াবী আলো। কিন্তু বাস্তবের সাজেক যে এতটা সুন্দর হতে পারে, তা কল্পনাও করিনি। আরও বেশি সুন্দর হয়ে উঠেছিল, কারণ আমার পাশে ছিল ফুল।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের পথে যাত্রা শুরু হতেই পাহাড় যেন আমাদের স্বাগত জানাতে শুরু করল। আঁকাবাঁকা সড়ক, সবুজের অসীম বিস্তার আর দূরের নীলাভ পাহাড়ের সারি দেখে ফুল বারবার গাড়ির বাইরে তাকাচ্ছিল। তার চোখে তখন এক ধরনের বিস্ময়, যা শিশুর প্রথমবার পৃথিবী দেখার আনন্দের মতো নির্মল।

সাজেকে পৌঁছে মনে হলো আমরা যেন মেঘের ভেতর এসে দাঁড়িয়েছি। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে নিচে তাকালে শুধু সাদা মেঘের ভেলা। মাঝে মাঝে সেই মেঘ পাহাড় ছুঁয়ে আমাদের গায়েও এসে লাগছিল। ফুল তখন দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল, সে যেন প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে। আমি দূর থেকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হয়তো এই পাহাড় নয়, এই মেঘও নয় আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিই।

বিকেলের আলো নরম হয়ে এলে আমরা হাঁটতে বের হলাম লুসাই গ্রামের দিকে। পাহাড়ি পথ ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। চারপাশে নিস্তব্ধতা, মাঝে মাঝে পাখির ডাক, আর দূরে পাহাড়ের বুক থেকে উঠে আসা মেঘ।

সূর্যাস্তের সময় সাজেক যেন অন্য এক রূপে ধরা দিল। পশ্চিম আকাশ লাল, কমলা আর সোনালি রঙে রাঙা হয়ে উঠল। পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে পড়ল শেষ বিকেলের আলো। আমরা দুজন চুপচাপ বসে সেই দৃশ্য দেখছিলাম। কোনো শব্দ ছিল না, তবু সেই নীরবতার মধ্যেই ছিল হাজারো অনুভূতির ভাষা। ভালোবাসা হয়তো এমনই সবসময় উচ্চারণ করতে হয় না, শুধু অনুভব করলেই যথেষ্ট।

পরদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙল। বাইরে বের হয়ে দেখি, পুরো সাজেক মেঘের চাদরে ঢাকা। মনে হচ্ছিল, আকাশ নেমে এসেছে পাহাড়ের কোলে। ফুলের মুখে তখন এক অপার্থিব হাসি। সেই হাসির মধ্যে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম ভ্রমণের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

সাজেক আমাকে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখিয়েছে, মেঘের স্পর্শ দিয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় যে উপহার দিয়েছে, তা হলো প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটানো কিছু অমূল্য মুহূর্ত। সময়ের স্রোতে হয়তো অনেক স্মৃতি ফিকে হয়ে যাবে, কিন্তু সাজেকের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে ফুলের হাত ধরে দেখা সেই সূর্যাস্ত, মেঘের ভেতর হারিয়ে যাওয়া সেই সকাল এসব স্মৃতি কখনো মুছে যাবে না।

আজও যখন চোখ বন্ধ করি, দেখি পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে ফুল। তার চুলে বাতাস খেলছে, চারপাশে মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। আর আমি মনে মনে বলছি সাজেক শুধু একটি ভ্রমণ নয়, এটি আমাদের ভালোবাসার স্মৃতিতে লেখা একটি সুন্দর অধ্যায়।

অর্ক রায়

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...