শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাহাড়ি ফল সংরক্ষণে বড় উদ্যোগ, প্রতিটি উপজেলায় কোল্ড স্টোরেজের ঘোষণা

রাজধানীতে পার্বত্য অঞ্চলের কেমিক্যালমুক্ত ও সুস্বাদু ফলের বাজার সম্প্রসারণ, বিপণন, প্রদর্শন, বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘পাহাড়ি ফল মেলা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পাহাড়ি ফল সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা বাড়াতে তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি ফলের বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কংকন চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রিজাউল করিম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল।

সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এবারের পাহাড়ি ফল মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়। তিন পার্বত্য জেলার উদ্যোক্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। তিনি জানান, এবারের আয়োজনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চিহ্নিত ছোটখাটো সমস্যাগুলো সমাধান করে আগামীতে আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয়ভাবে মেলার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের পক্ষে রাঙামাটির ‘জুম ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী বিনীতা চাকমা, বান্দরবানের চংরেং ম্রো এবং খাগড়াছড়ির কংকনা চাকমা মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ফল বিক্রির সুযোগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে মেলায় অংশগ্রহণকারী সেরা উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ‘পাহাড়ি ফল মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ মেলায় দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা উদ্যোক্তারা ৩০টি স্টলে আম, আনারস, কাঁঠাল, কলা, রাম্বুটান, বুনো রক্তফল (রসকো), বুনোবেলসহ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালমুক্ত মৌসুমি ও দুর্লভ পাহাড়ি ফল প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। আয়োজকদের দাবি, দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া ও কেনাকাটার মধ্য দিয়ে এবারের পাহাড়ি ফল মেলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সাব্বির, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...

ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, মৃত প্রসব হলো প্রথম সন্তান

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর...