বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এনসিটি-সিসিটি নয়, স্কপের কালো পতাকা মিছিল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় নগরের আগ্রাবাদের আক্তারুজ্জামান সেন্টার প্রাঙ্গণে মিছিল-পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি কালো পতাকা মিছিল বাদামতলী থেকে শুরু হয়ে বারিক বিল্ডিং মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে ‘গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড’, ‘রক্ত দিব, জীবন দিব, এনসিটি-সিসিটি দিব না’ এবং ‘দেশের বন্দর দেশের হাতে রাখতে হবে’- এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস. কে. খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং টিইইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম হোসেন সেলিম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের হেলাল উদ্দিন কবির, বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি নুরুল আবছার তৌহিদ, বিএফটিইউসি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কে. এম. শহিদুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, ইব্রাহীম ফরাজী, দেলোয়ার হোসেন, মার্চেন্ট শ্রমিক দল নেতা মো. হারুন এবং বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব টার্মিনাল দেশি বা বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে নিজস্ব সক্ষমতায় পরিচালিত হয়ে রাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব দিচ্ছে। তাই লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল নিয়োগ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনসিটি ও সিসিটির পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাই জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ইজারার সব উদ্যোগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তারা।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বন্দর কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয়; এটি দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ধরনের কনসেশন বা ইজারা চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। দাবি আদায় না হলে শ্রমিক-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তারা।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...