বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি আসরই তৈরি করে নতুন গল্প। কখনো ইউরোপের আধিপত্য, আবার কখনো লাতিন আমেরিকার নান্দনিক ফুটবলের জয়গান। ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই লাতিন আমেরিকার দলগুলোর দাপুটে পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনায় এনেছে একটি প্রশ্ন—এবারও কি বিশ্বকাপের শিরোপা যাবে লাতিন আমেরিকার কোনো দলের ঘরে?
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২-এ অংশ নেওয়া লাতিন আমেরিকার ছয়টি দলের মধ্যে পাঁচটিই জায়গা করে নিয়েছে পরবর্তী পর্বে। অংশগ্রহণের তুলনায় তাদের সাফল্যের হার ইউরোপীয় দলগুলোর চেয়েও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কাকতালীয় নয়; বরং লাতিন আমেরিকার ফুটবলের ধারাবাহিক শক্তিমত্তা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারই প্রমাণ।
এবারের আসরে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল জার্মানিও লাতিন আমেরিকার প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে। একসময় ইউরোপীয় ফুটবলের আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত দলগুলোর বিপক্ষে লাতিন আমেরিকার এই সাফল্য বিশ্ব ফুটবলের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এরই মধ্যে ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে নিশ্চিত করেছে রাউন্ড অব ১৬-এর টিকিট। ধীরে ধীরে নিজেদের চিরচেনা ছন্দে ফিরছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি, মাতেউস কুনিয়ার আক্রমণভাগে কার্যকারিতা এবং দলের ভারসাম্য তাদের শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে রাখছে।
অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও রয়েছে দারুণ ছন্দে। অভিজ্ঞতা, কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তায় দলটি এখনো অন্যতম ফেবারিট। অধিনায়ক লিওনেল মেসিও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। একটি হ্যাটট্রিকসহ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই জোরালো হচ্ছে একটি প্রশ্ন—২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কি আবারও লাতিন আমেরিকার কোনো দলের হাতেই উঠবে?
সোহাইল, চট্টলা২৪

