চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের উচ্চ জোয়ারে ছনুয়া, চাম্বল, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে সমুদ্রের লোনা পানি ঢুকে পড়ায় চিংড়িঘের, সবজি ক্ষেত, পানবরজ ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া কদমরসুল এলাকায় বেড়িবাঁধের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থান দিয়ে লোনা পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছনুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রায় এক হাজার পরিবার জলাবদ্ধতায় পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে বসতঘর, মাছের ঘের ও সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে রাখায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
এদিকে পুঁইছড়ি, শেখেরখীল ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝুঁকির কারণে উপজেলার সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা করেছে। সিপিপির প্রায় ১ হাজার ৪২০ স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, আউশ ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফারুক, চট্টলা২৪

