ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে রক্ষিত ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ তুলে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট আটজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, শওকত আলী চৌধুরী যুক্তরাজ্যে রক্ষিত ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন। যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক লেনদেনটি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে বিএফআইইউকে অবহিত করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ না নেওয়ায় অর্থটি শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ে স্থানান্তরিত হয়।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, পরে ওই অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে ২০২৫-২৬ কর বছরে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ দেখিয়ে সম্পদ ঘোষণা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ কেবল কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ নেই বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, বিএফআইইউর আগের অনুসন্ধানে শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২৮টি ব্যাংকের ১৮৭টি হিসাবে প্রায় ৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে আসে এবং এ কারণে ২০২৫ সালে দুই দফায় তাদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছিল।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তাই ২৫ মিলিয়ন ডলার সংক্রান্ত সব গোয়েন্দা তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর এবং তার বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগের আলোকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ইবিএলের চেয়ারম্যান হিসেবে তার ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মর্যাদা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফারুক, চট্টলা২৪

