বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহারণে জয়ী দল নিশ্চিত করবে ফাইনালের টিকিট। ম্যাচটি নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসে সামান্য এগিয়ে রেখেছে ইংল্যান্ডকে অপটা সুপার কম্পিউটার।
ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নির্ধারণে ১০ হাজারেরও বেশি সিমুলেশন চালিয়েছে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা। সেই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ইংল্যান্ডের ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান খুবই সামান্য, যা ম্যাচটি যে সমানে সমান লড়াই হতে যাচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই শুধু মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাস ও তীব্র আবেগও। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ফুটবলের এই দ্বৈরথেও পড়েছিল।
বিশ্বকাপে দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয়েছিল ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেন। এরপর করেন ইতিহাসখ্যাত ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। দুটি গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিন
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে আগের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয় ইংলিশরা। সেটিই বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াই।
এবার আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্ম—সব মিলিয়ে জমজমাট এক সেমিফাইনালের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
সোহাইল, চট্টলা২৪

