বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শুধু ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনই সরকারের লক্ষ্য: মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে জেলা পরিষদের রেস্ট হাউস প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর হেলাল বলেন, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলে সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বান্দরবানের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তাদের এক মাসের ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি ও সুদের অর্থ মওকুফ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সুবিধা আরও কয়েক মাস বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মীর হেলাল বলেন, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের সমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশকে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৩০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ২৫ কেজি করে চাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী বান্দরবান সদর উপজেলার ক্রাইক্ষ্যংপাড়া এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেন।

রোয়াংছড়িতে ত্রাণ বিতরণকালে মীর হেলাল বলেন, মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু ও পাখির সুরক্ষাকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এবারের দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সঠিক তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার, রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. জাবেদ রেজাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...