প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফটিকছড়ি সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী সিএনবি মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের সম্ভাব্য স্থান পেলাগাজী সিএনবি মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সকালে সেনাবাহিনীর বিশেষ দল তল্লাশি চালায়। সফরকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসও মাঠের পাশে আনা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এতদিন তারা প্রধানমন্ত্রীকে টেলিভিশনের পর্দা কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছেন। এবার তাকে সরাসরি দেখার সুযোগ পাওয়ায় তারা আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই তারা মাঠ ও আশপাশের সড়কে অপেক্ষা করছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নবগঠিত উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর নিয়েও নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে। তাদের দাবি, গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাটের উত্তরে যৌক্তিক ও সহজ যোগাযোগসমৃদ্ধ স্থানে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপন করা হোক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা অনুমোদন পাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের আগে স্থানীয় মানুষের মতামত ও গণশুনানির সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল থেকে সরকারি সেবা নিতে বর্তমান উপজেলা সদরে যেতে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়। নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রশাসনিক সেবা জনগণের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়া।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব হোসেন বলেন, নতুন উপজেলার সঙ্গে দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে যুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করা উচিত, যেখান থেকে উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী সহজে সরকারি সেবা নিতে পারে।
আরেক বাসিন্দা রবিউল হাসান তানজিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি আগমন তাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণে সাধারণ মানুষের মতামত ও গণশুনানির সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি। নারায়ণহাটের উত্তরে সহজ যোগাযোগসমৃদ্ধ স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে রোববার দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী সিএনবি মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তার ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে।
সাব্বির, চট্টলা২৪

