চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় মো. শাহজাহান নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (৩১) ওরফে আরিফকে এক মাস পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে চান্দগাঁও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব কোদালা এলাকার বাসিন্দা সানোয়ারা বেগম গত ৬ জুলাই চান্দগাঁও থানায় মামলাটি করেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৯ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, বাদীর ছেলে শাহজাহান কর্মসূত্রে চান্দগাঁও থানাধীন সিএন্ডবি টেকবাজারপুল এলাকায় বসবাস করেন। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এর জেরে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে বাহির সিগন্যাল এলাকার শংকর দেওয়ানজীরহাট মসজিদের সামনের পুকুরপাড়ে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এ সময় হামলাকারীরা শাহজাহানকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং কিরিচ দিয়ে তার ডান হাত ও দুই পায়ে কোপ দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। লোহার রড দিয়ে ডান হাঁটুতে আঘাত করে হাড় ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, হামলার সময় শাহজাহানের কাছে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা, আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্টফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত শাহজাহানকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর থেকে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে নজরদারি চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক মাস পর প্রধান আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, শুক্রবার দুপুরে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সাব্বির, চট্টলা২৪

