চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গণের মানুষের প্রাণ কেন্দ্র কাজীর দেউড়ি আউটার স্টেডিয়াম। এই মাঠে হওয়ার কথা ছিল এবারের বিজয় মেলা। মেলার জন্য পূর্ব প্রস্তুতিও ছিল শেষ পর্যায়ে।
‘খেলার মাঠে মেলা’ এমন শিরোনামে গতকাল চট্টলা২৪ এ প্রকাশিত সংবাদের পর টনক নড়ছে জেলা প্রশাসনের।
শিশু-কিশোদের অনুশীলনের বিষয়টি বিবেচনা করে নগরীর কাজির দেউরী মাঠে (আউটার স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিতব্য বিজয় মেলার ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। ‘চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে’ শিরোণামের এই মেলা সিআরবিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে তিনি জানান, চট্টগ্রামের খেলাধুলার ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং বহু কৃতী খেলোয়াড় তৈরির আঁতুরঘর চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়াম। এই মাঠে অনুশীলন করে দেশের সেরাসেরা খেলোয়াড় বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এই মাঠের সে সুনামের ধারাবাহিকতা রাখতে চায়। সেকারণে আউটার স্টেডিয়াম থেকে অনুষ্ঠিতব্য বিজয়মেলা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এর আগে কাজির দেউরীস্থ আউটার স্টেডিয়াম মাঠে ৭দিন ব্যাপী বিজয়মেলা উৎযাপনের ঘোষণা দিয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইভেন্ট ম্যানেজমমেন্ট প্রতিষ্ঠান ই. এ এসোসিয়েটস মেলাতে স্টল বসাতে মাটি খোড়ার কাজ শুরু করে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ইতোমধ্যে স্টল বসানোসহ আনুষাঙ্গিক কাজ অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে। তারপরেও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই মাঠ থেকে মেলা অনত্র সরিয়ে নেওয়ার।
আউটার স্টেডিয়াম থেকে মেলা সরানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এমনিতেই খেলার মাঠ নাই। তারপরও যদি এই মাঠ মেলার জন্য ব্যবহার করা হয় বিষয়টি আত্মঘাতি হবে। কাজির দেউরি মাঠ থেকে বিজয় মেলা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান তিনি।
আউটার স্টেডিয়াম থেকে মেলা সরানোয় জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয় আর্কিটেক্ট আশিক ইমরান বলেন, কাজির দেউরি মাঠকে খেলার উপযোগি করে গড়ে তুলতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। আমাদের চট্টগ্রামে খেলার উপযোগি কোনো মাঠ নাই। গত বছর জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছিলেন এই মাঠকে দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোরদের খেলার জন্য উপযুক্ত একটি জায়গা করে দিবেন। সে পরিকল্পনাতেই কাজ হচ্ছিলো। চলতি ডিসেম্বরে এই মাঠে খেলার নানান ইভেন্ট আয়োজনের কথা ছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে এই মাঠ পানি জমে ভাগার হয়ে থাকবো। পানি যাতে না জমতে পারে সেকারণে এই মাঠে আড়াই ফুট মাটি ফেলা হয়েছিল; সে মাটিতে সবুজ ঘাস উঠতে সময় লেগেছে একবছর। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন, চারপাশে ওয়াকওয়ের পরিকল্পনা ছিলো। এই মাঠে আবার যদি মেলা শুরু হয় পুরো মাঠটাই বরবাদ হয়ে যাবে। যোগ করেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ।
জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিজেকেএস’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন বলেন, নগরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে আউটার স্টেডিয়ামকে দখলমুক্ত এবং খেলার উপযোগি করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছিল যুব ও ক্রিড়ামন্ত্রণালয়। তারই প্রেক্ষিতে সেখান থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। সব ধরণের মেলা বন্ধ করে সেখানে প্রায় ৬০লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়। এই মাঠে যদি আবারও মেলার অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে পুরো উন্নয়ন কাজটিই জলে যাবে।
ইমন/চট্টলা২৪

