চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় জড়িত—এমন আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আনোয়ারা উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার যুবকের নাম রিপন দাস (২৭)। তিনি নগরের কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার মৃদুল দাসের ছেলে। তিনি পেশায় ফার্মেসির কর্মচারী।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রিপনকে আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে নীল রঙের গেঞ্জি হাতে বটি নিয়ে দেখা গেছে। তবে তিনি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি নন।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘এ পর্যন্ত আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার রিপন ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোরে আইনজীবী আলিফ হত্যার প্রধান আসামি চন্দনকে ভৈরব রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে চট্টগ্রাম আনা হয়েছে এবং আগামীকাল শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে ফেরার পথে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বহিস্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় ব্রক্ষ্মচারীকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোতোয়ালী থানায় হওয়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তখন চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে দেন। তারা এ সময় প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লাঠিপেটা করে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে।
এছাড়া গত শনিবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। পাশাপাশি আলিফের ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা করেছেন নগরের কোতোয়ালী থানায়।
চৌধুরী/চট্টলা২৪

