নিলামে উঠেছে পর পর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন বাংলার জ্যোতি ও বাংলার সৌরভ।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) এই নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অগ্নি দুর্ঘটনার পরপরই জাহাজ দুইটি বিক্রি করে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর নিলাম প্রক্রিয়ায় গেল সংস্থাটি। নিলাম প্রক্রিয়ায় যেতে দেরি হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের মূল্য বেশি থাকায় লাভবান হবে বলে মনে করছে ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিলামে তোলা জাহাজ দুইটি ৩৭ বছর ধরে বিএসসি ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির ডলফিন জেটিতে তেল আনার কাজে। ১৯৮৬ সালে ডেনমার্কের তৈরি করা এমটি বাংলার সৌরভ বিএসসির বহরে যুক্ত হয় ১৫ জুন ১৯৮৭ সালে। আর ১৯৮৭ সালের তৈরি করা এম. টি বাংলার জ্যোতি বহরে যুক্ত হয় একই বছরের ১৫ মে। ডেনমার্কের তৈরি জাহাজ দুইটির ধারণ ক্ষমতা ১৪ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টনের। ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলার জ্যোতিতে আগুন লাগার পাঁচ দিন পর ৫ অক্টোবর আগুন লাগে বাংলার সৌরভে।
দরপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘৫ ফেব্রুয়ারি দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত দরপত্রে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে ১২ হাজার টাকা দিয়ে শিডিউল পেপার কিনে সিকিউরিটি মানি ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়ে ৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টার মধ্যে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। আগ্রহীরা নিয়ম মেনে এ উন্মুক্ত নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এজন্য চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিএসসি অফিসে টেন্ডার বক্স রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কেউ চাইলে আমাদের gm-fin@bsc.gov.bd ইমেইলের মাধ্যমেও টেন্ডার জমা করতে পারবেন।’
এ নিয়ে জানতে চাইলে এইচএম স্টিল লিমিটেডের পরিচালক মো. সরোয়ার আলম বলেন, ‘জাহাজ কেনা-বেচায় তো কারো লস হওয়ার সুযোগ নাই। তবে গত দুই-তিন মাস আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের দাম কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। তাই বিএসসি এখন ভালো দাম পাবে। সেক্ষেত্রে আমরা যারা বিট করবো, তাদের রেট বাড়তি দিতে হবে। এখন আমরা জাহাজটির অবস্থা বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে বিটের প্রস্তুতি নিবো।’
চৌধুরী/চট্টলা২৪

