চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী এবং তার গেস্টদের নিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের আচরণ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। ঘটনার সূত্রপাত মধ্যরাতে, যখন এক শিক্ষার্থীর গেস্টসহ চার বন্ধুকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা কর্মীরা আটকে দেয়। শিক্ষার্থীর দাবি, তাদের কাছে কোনো অবৈধ বস্তু ছিল না এবং তারা কোনো আপত্তিকর অবস্থায়ও ছিলেন না।
রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ এবং হয়রানির শিকার হওয়া ওই শিক্ষার্থী জানান, নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাদের আটক করে। দুই নারী বন্ধুকে ক্যাম্পাসে থাকতে দেওয়া হলেও বাকি দুইজনকে নিরাপত্তা কর্মীরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীর একাধিক অনুরোধ এবং পরীক্ষা চলাকালীন মানসিক চাপ সহ্য করতে না পারার কথা উল্লেখ করার পরও, নিরাপত্তাকর্মীরা আশ্বস্ত করলেও সকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
পরদিন সকালে প্রভোস্ট, হাউস টিউটর এবং প্রক্টর মিলে ওই শিক্ষার্থী এবং তার গেস্টদের ডেকে পাঠান। শিক্ষার্থীর দাবি, সেখানে তাদের প্রতি কর্তৃপক্ষ এমন আচরণ করেছে, যা সম্পূর্ণ অবমাননাকর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয় এবং বিষয়টির প্রকৃত সারবত্তা উপেক্ষিত থাকে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ক্যাম্পাসে প্রকৃত নিরাপত্তার জায়গায় প্রশাসনের এই রকম হস্তক্ষেপ কতটা যুক্তিযুক্ত?
এক শিক্ষার্থী বলেন, “যদি কেউ কোনো অপরাধ করত, তবে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রমাণ করে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু বিনা কারণে একজন শিক্ষার্থী এবং তার গেস্টদের মানসিকভাবে হয়রানি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। তবে শিক্ষার্থীরা ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং দোষীদের জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট\চট্টলা২৪

