চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রিজ মোড় থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত ১৭ নম্বর রুটে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক বৈধ-অবৈধ অটোটেম্পো চলাচল করে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করছে চট্টগ্রাম অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের নেতৃত্বে আংশিক পরিবর্তন এলেও চাঁদাবাজির সমস্যা কমেনি, বরং নতুন অজুহাতে চালক ও মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
টেম্পো মালিক ও চালকদের অভিযোগ, মাসে অন্তত ২০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পরিচয়পত্র তৈরির জন্য ১০ হাজার, দৈনিক লাইন খরচ হিসেবে ২০০ টাকা, এবং মাসিক ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া পারমিটবিহীন টেম্পো চালাতে মালিকদের এন্ট্রি ফি বাবদ ৪০ হাজার টাকা এবং পারমিট থাকা টেম্পোর জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
চালকরা জানান, চাঁদা দিতে দেরি হলে তাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। অনেক সময় গাড়ি আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভাড়া তুলতে না পারার আগেই চাঁদার টাকা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে তারা প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী চালকদের একটি দল সিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে চাঁদাবাজির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি মো. জাহেদ বলেন, “চাঁদাবাজির অভিযোগ সঠিক নয়। কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
চালক-মালিকদের দাবি, প্রশাসনের অবহেলা এবং সংগঠনের নেতাদের দৌরাত্ম্যের কারণে এই সমস্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তারা দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট/ইমন দাশ

