মোসলেহ, সীতাকুণ্ড : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাত কর্মচারীর নিয়োগ ব্যাতিত চাকুরী করায় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অব্যাহতি প্রাপ্ত কর্মচারীরা ২০ থেকে ৪১ বছর ধরে পরিষদে কাজ করে আসছেন বলে জানিয়েছেন। তারা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে পরিষদের কাজে নিয়োজিত ছিলো।
অব্যাহতি প্রাপ্ত কর্মচারীরা হলেন, ইউনিয়ন পরিষদের আদালত সহকারী মোঃ মমতাজ উদ্দিন, অফিস সহকারী মোঃ জসিম উদ্দিন, নাইটগার্ড রওশন আলী, ফুলমালী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, অফিস সহায়ক লাকি আক্তার, আয়া শিখা সেন ও আনসার কমান্ডার শাহাবুদ্দিন রাশেদ।
জানা যায়, ৪১ বছর পূর্বে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে আদালত সহকারী হিসেবে যোগদান করেন মোঃ মমতাজ উদ্দিন। ওই সময় দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান তাকে নিয়োগ দিলেও লিখিত কোন নিয়োগ পত্র দেননি। পরবর্তী দায়িত্বে আসা চেয়ারম্যানরাও তাকে দায়িত্বরত কাজে অব্যাহত রেখেছেন । বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বেতনও নিচ্ছেন নিয়মিত।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী মোঃ জসিম উদ্দিন কাজ করেছেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। বর্তমানেও রয়েছেন অফিস সহকারী হিসেবে। মমতাজ ও জসিম ছাড়াও আরও ৫ কর্মচারী বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে।
গত ১৯ ডিসেম্বর ডিডি এল জি চট্টগ্রামের কর্মকর্তা সোনাইচড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে তাদের কোন নিয়োগপত্র না থাকায় তাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন।
গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার কার্যালয়ে তাদেরকে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য জানার জন্য ডাকেন। এসময় তাদের বৈধ কোন নিয়োগপত্র না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। ইউনিয়ন পরিষদ আয়ের টাকা থেকে তাদের বেতন দেওয়া হবে না বলে তাদেন জানিয়ে দেওয়া হয়।
অব্যাহতি প্রাপ্ত সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত সহকারী মোঃ মমতাজ উদ্দিন বলেন, ৪১ বছর পূর্বেই চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। নিয়মিত বেতন ভাতাও দিতেন। গত মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সরকারি কমিশনার (ভূমি) স্যার আমাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে দলীয় সুত্রে জানা গেছে, মোঃ মমতাজ উদ্দীন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মোঃ জসিম উদ্দিন সীতাকুণ্ড উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এর সদস্য। অন্য ৫ জনও বিএনপির সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
সরকারি কমিশনার (ভূমি) ও সোনাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাদের বৈধ কোন নিয়োগপত্র না থাকায় তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আত্মগোপনে থাকা সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ বলেন, ৩০-৪০ বছর পূর্বে দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যানগন তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ধারাবাহিকতায় তা অব্যাহত ছিলো। পরিষদের আয় থেকে তাদের বেতন দেওয়া হতো।
এ আর ইমন/চট্টলা২৪

