রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে পিটিআই ভবনে সচেতন নাগরিক সমাজ আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না। ব্যক্তিগত বিরোধকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমদ বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে কখনোই সাম্প্রদায়িক হতে দেবো না। চট্টগ্রাম থেকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া হলেও আমরা তা প্রতিহত করেছি। এদেশ একক কোনো ধর্মের নয়; এটি সবার। ৫ আগস্টের পর আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মন্দির ও মসজিদ পাহারা দিয়েছি। শেখ হাসিনা ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিরোধকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, “বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ। এখানে সাম্প্রদায়িকতা কখনোই স্থান পাবে না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় আমরা কোনো ধর্ম বা দলের পরিচয়ে বিভক্ত হইনি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে বিরোধ থাকবে না।”
জামায়াতে ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগরের আমির মাওলানা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের মতো সম্প্রীতির দেশ পৃথিবীতে বিরল। ভারতের উদ্দেশ্যে বলছি, আমাদের দেশে সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করবেন না। আমরা নিজেরাই আমাদের সম্প্রীতি রক্ষা করতে সক্ষম।”
প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “এ দেশ আমাদের, এখানে আমাদের থাকতে হবে এবং মরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশের সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নাছির উদ্দীন মুনিরী, সহকারী মহাসচিব জাফর আহমেদ, জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, এবং পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান।
সমাবেশে বক্তারা দেশের সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
ডেস্ক রিপোর্ট /ই ডি/চট্টলা২৪

