রবিবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সাংবাদিকদের রাজনৈতিক কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়া, দলীয় সক্রিয়তা বন্ধ, এবং পেশার ন্যূনতম মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ বৈষম্যের শিকার সাংবাদিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, ‘যারা হয়রানিমূলক মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’
সাংবাদিকদের রাজনৈতিক দলবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পেশাগত আদর্শ ধরে রাখতে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বন্ধ করা প্রয়োজন। কারণ রাজনৈতিক প্রভাব সংবাদ বিকৃতি ঘটাচ্ছে।’
কমিশন প্রধান দেশের প্রেসক্লাবগুলোর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সমস্যাগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসক্লাবগুলো অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুবিধার প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছে। এটি সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।’
দেশে টেলিভিশন ও পত্রিকা শিল্পের বিশৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৪৬টি টেলিভিশন অনুমোদিত হলেও বাজারের সক্ষমতা নেই। একই সঙ্গে একাধিক গণমাধ্যমের মালিকানা কেন্দ্রিক বৈচিত্র্যের অভাব দেখা দিয়েছে।’
সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন নিশ্চিত করার প্রস্তাবও কমিশন গুরুত্ব দিয়েছে। ঢাকার মতো শহরগুলোর জন্য ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন কামাল আহমেদ।
সভায় ডিএফপি প্রদত্ত পত্রিকার প্রচারসংখ্যা এবং সরকার অনুমোদিত পত্রিকাগুলোর বাস্তবতাও আলোচনায় উঠে আসে। একই ব্যক্তি একাধিক গণমাধ্যমের মালিক হতে পারা নিয়েও সমালোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় কমিশনের অন্যান্য সদস্য এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট/পিসি

