নগরীর সদরঘাট থানা এলাকা থেকে দিনদুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে চার যুবক এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গেছে। শুভাশিষ বসু নামে ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ীকে হাটহাজারী এলাকার একটি ঘরে দিনভর আটকে রাখা হয়। অপহরণকারীরা ব্যবসায়ীর স্বজনদের সদরঘাট থানায় যাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টায় সদরঘাট থানার পোড়া মসজিদ এলাকায় দোকানের সামনে থেকে শুভাশিষকে অপহরণ করা হয়। দোকানের কর্মচারী লিটন বাধা দিলে যুবকরা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে, তার বিরুদ্ধে একটি ওয়ারেন্ট আছে এবং তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাচ্ছে।
পরে, অপহরণকারীরা শুভাশিষকে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে ছেড়ে দেয়। তবে এ ঘটনায় সদরঘাট থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং কেউ আটকও হয়নি। অপহরণের ঘটনায় নগর পুলিশের ওই জোনের উপ-কমিশনারও কিছু জানেন না।
অপহরণের শিকার শুভাশিষ জানান, তার দোকানের সামনে গাড়ি থেকে নামার পর দুই যুবক তাকে ধরে একটি মাইক্রোবাসে তোলে। সেখানে তার হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে রাখা হয়। গাড়িতে চারজন ছিল, সবাই প্রায় ৩৫-৪০ বছর বয়সী এবং দাড়ি ছিল। তারা বলছিল, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং খুলশী থানায় নিয়ে যাবে, কিন্তু তাকে সেখানে নেয়া হয়নি।
দুই ঘণ্টা গাড়িতে থাকার পর, শুভাশিষকে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মুক্তিপণ দিতে হবে বলে জানানো হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে অপহরণকারীরা জানতে পারে, ব্যবসায়ীর স্বজনরা সদরঘাট থানায় গেছেন। এরপর তারা শুভাশিষকে আবার হ্যান্ডকাফ পরিয়ে অন্য একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
রাত ১০টার দিকে হাটহাজারী চৌধুরী হাটের কাছে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। এরপর তিনি স্বজনদের ফোন করেন এবং তারা তাকে উদ্ধার করতে আসেন।
এ ঘটনার সম্পর্কে জানতে চাইলে শুভাশিষ বলেন, অপহরণের পর তার স্বজনরা থানায় গিয়েছিলেন অভিযোগ জানাতে। উদ্ধার হওয়ার পর তিনি সদরঘাট থানার ওসির কাছে গিয়ে জানতে পারেন, অপহরণকারীদের ধরতে পারেননি। তিনি জানান, অপহরণকারীরা তার সাথে অমানবিক আচরণ করেছে এবং তিনি মামলা করতে প্রস্তুত আছেন।
এটি প্রথম ঘটনা নয়; ৯ ডিসেম্বর একই কায়দায় সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকার এক ফার্মেসির মালিক রাজু মজকুরিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে পুলিশের এক কনস্টেবলসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।
ডেস্ক রিপোর্ট / পিসি

