সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ ও তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য জানিয়েছেন।
২০২৩ সালে ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা হয়েছিল। এতদিন সেই তথ্য প্রকাশ করা না হলেও প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করে দুদক। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অবৈধ উপায়ে গড়ে তোলা সম্পদের বিবরণী।
বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা সর্বশেষ ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি)। সরকারি স্কেল অনুযায়ী তৃতীয় গ্রেডের চাকরিজীবী হিসেবে সর্বসাকুল্যে বেতন ৮০ হাজার টাকারও কম। অথচ সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন হারুন।অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও মহানগর ডিবির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।১৮ আগস্ট কমিশনের এক বৈঠকে কয়েকজনের দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের বিরুদ্ধে গত ১৯ শে আগস্ট মামলা দায়ের করেন বিএনপির নেতা জয়নুল আবেদীন ফারুক। ২০১১ সালে বিএনপির ডাকা হরতাল কর্মসূচি চলাকালে সংসদ ভবনের কাছে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়েছিলেন ফারুক। সে সময় লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় সেসময় থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।
২০২২ সালের ১৩ ই জুলাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান হন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও গোয়েন্দা উত্তর) হারুন অর রশিদ। ডিবি প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ‘ভাতের হোটেল’ হিসেবে পরিচিতি পান হারুনুর কার্যালয়। বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করে বসিয়ে দেন ভাতের টেবিলে।
সম্প্রতি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতন করার অভিযোগ তুলেন ওয়ারীর বাসিন্দা ব্যবসায়ী সৈয়দ আজহারুল কবির।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান হারুন। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ছয় সমন্বয়ককে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে জোর করে আন্দোলন স্থগিতের বিবৃতি দিতে বাধ্য করেন তিনি।

