বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফুলের বাজার জমজমাট হওয়ার কথা থাকলেও এবার চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। আগের বছরগুলোতে যেখানে দেড়-দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি হতো, এবার তা নেমে এসেছে প্রায় ৫০ লাখ টাকায়। ব্যবসায়ীরা ফুল বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।
চেরাগী পাহাড় ও মোমিন রোডসহ শহরের বিভিন্ন ফুলের দোকানে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা ও গাঁদাসহ নানা ফুল সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে শবে বরাত, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লগ্ন এবং শুক্রবার একসঙ্গে হওয়ায় বাজারের কেনাবেচা আশানুরূপ হয়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন।
অপরাজিতা পুষ্প বিতানের তৌসিফ উদ্দিনও একই হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি ভালো থাকলেও এবার বেচাকেনা একদম কম। সাধারণত বসন্ত উৎসবের আগের দিন, মূল দিন ও পরের দিন সবচেয়ে ভালো বিক্রি হয়। কিন্তু এবার ধর্মীয় ও সামাজিক কারণের প্রভাব পড়েছে বাজারে।”
ফুলচাষিরাও এবার লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন। চাষি আবদুল কাদের জানান, প্রচুর গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধা উৎপাদন করা হলেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা কম দামে কিনছেন, ফলে প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না।
তবে কিছু ক্রেতার মতে, এবার ফুলের দাম তুলনামূলক কম ছিল। ব্যাংক কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, “আমি আমার মায়ের জন্য সাদা চন্দ্রমল্লিকা কিনতে এসেছি। আগে দাম বেশি থাকলেও এবার তুলনামূলক কম মনে হলো।”
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাকিব হাসানও জানান, “প্রতি বছর এই দিনটায় বাজারে এত ভিড় থাকে যে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যায় না। এবার বাজার ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। তবে দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে।”
চেরাগী পাহাড় ও মোমিন রোডের পাইকারি বাজারে দেশি গোলাপ বিক্রি হয়েছে ২০-৪০ টাকায়, বিদেশি লাল, সাদা ও গোলাপি গোলাপ ১০০-১৫০ টাকায়। রজনীগন্ধার স্টিক ১০-২৫ টাকা, ১০ পিস সাদা চন্দ্রমল্লিকা ৫০-১০০, লাল-নীলসহ ভিন্ন রঙের চন্দ্রমল্লিকা ৪০-৫০, গ্লাডিওলাস ৩০-৫০, এক হাজার গাঁদা ৪০০-৫০০ এবং জারবেরা ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ক্রাউনের পিস ৩০০-৪০০ ও চায়না লিলি ৪৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য ভালো পরিমাণ বিক্রি হবে, যা বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসে কম বিক্রির ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে পারে। তবুও সামগ্রিকভাবে এবার বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসে চট্টগ্রামের ফুল ব্যবসা আশানুরূপ হয়নি বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।
ই ডি

