খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও শিবিরকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের গেমস রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের নেতারা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, “গতকালের সহিংসতায় জড়িত কিছু স্থানীয় দলীয় কর্মীকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তারা কেউই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন এবং ছাত্রদলের ইন্ধনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর কোনো কারণও তাদের নেই।”
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, কুয়েটের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি মিছিল থেকে কতিপয় ছাত্রদল সমর্থকের ওপর অতর্কিত হামলার মধ্য দিয়ে হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে মিছিলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুয়েট কমিটির আহ্বায়ক ওমর ফারুক প্রথমে তাদের ওপর হামলা করেন এবং তার নেতৃত্বে মিছিলকারীরা তেড়ে যান।
ছাত্রদলের নেতারা বলেন, কুয়েট প্রশাসন ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি জানায়, “ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে ও অফলাইনে অপপ্রচারের মাধ্যমে ছাত্রদলের নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তাই আমাদের সংগঠনের নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
শিবিরের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টার অভিযোগ এনে ছাত্রদল জানায়, “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে নতুন শিক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হচ্ছে দেখে আন্ডারগ্রাউন্ড অপরাজনীতির মাধ্যমে উসকানি ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে কিছু গোপন সংগঠন।”
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ই ডি

