চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য দেখিয়ে আসছে, তবুও তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দেশসেরা ক্রীড়াবিদরা উঠে এলেও, এই অঞ্চলের খেলাধুলার অবকাঠামোর প্রতি সুবিচার করা হয়নি। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামকে গোপনে ২৫ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চট্টগ্রামের মাঠে চট্টগ্রামের খেলোয়াড়রাই খেলবে—এটাই আমাদের অবস্থান।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) রাতে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম চত্বরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আয়োজিত এবং চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ ব্যবস্থাপিত একুশে বইমেলা-২০২৫ মঞ্চে “তরুণ-যুব সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ রাখতে ক্রীড়ার ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, যেখানে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। একইভাবে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেও তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। খেলাধুলাও সেই চেতনারই একটি অংশ, যা তরুণদের মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আবাসন প্রকল্পে স্পোর্টস জোন রাখতে হবে, অন্যথায় অনুমোদন দেওয়া হবে না। খেলার মাঠের অভাবে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা হারিয়ে যায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। মাঠ থাকলেই নতুন প্রতিভা বিকশিত হবে এবং ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সিজেকেএস-এর সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক খেলোয়াড় হাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম বলেন, তরুণদের সুস্থ রাখতে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেলার মাঠ অপরিহার্য। মেয়রের নেওয়া উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। আমিনুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
সভাপতির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান বলেন, ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখা তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান স্মরণীয়। ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রীড়াকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে এবং ক্রীড়া সংগঠকদের যথাযথ সম্মান জানানো উচিত।
চট্টগ্রামের নবনির্মিত শহীদ মিনার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এটি চমৎকারভাবে নির্মিত হয়েছে এবং একুশের প্রথম প্রহরে সেখানে গিয়ে সবাইকে শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই মিলে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর শহরে পরিণত করবেন।
ই ডি

