সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাত, চট্টগ্রামের ২৮ সাংবাদিকসহ যুবলীগ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ছাত্র ও গণহত্যার উষ্কানির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করার পর বাদি অধ্যক্ষ হাসিনা মমতাজকে বিব্রত করে সংবাদ প্রকাশ করেছে একটি অনলাইন পোর্টাল। সেই সংবাদের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অধ্যক্ষ হাসিনা মমতাজ।
রবিবার গণমাধ্যম পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে : গণহত্যায় উস্কানীর অভিযোগে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, ২৮ জন সাংবাদিকসহ ৪৯ জনের ( অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ ছাড়া) বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমার করা মামলা সম্পর্কে গত ৭ শে সেপ্টেম্বর অনলাইন পোর্টাল ‘সিভয়েস ২৪’ এ ‘ আসামীরা অচেনা, হাতে গছানো হয় এজাহার’ শীর্ষক খবরে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আমার করা মামলার বিষয়ে আপনাদের নিউজ পোর্টালে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় এহেন মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
‘ আমি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করতে চাই উক্ত মামলাটি একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে আমি আদালতে দায়ের করেছি। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে পিবিআই আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন। পুলিশের সেই প্রতিবেদনে কে দোষী, কে নির্দোষ সেটি প্রমাণ হবে।’
‘ একজন শিক্ষিত মা হিসেবে আমি নিজে সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে গণমাধ্যমের নির্লজ্জ মিথ্যাচার আহত করেছিলো বলে বিবেকের তাড়নায় মামলা দায়ের করেছি। কোন পক্ষ আমাকে মামলার এজাহার ধরিয়ে দিয়েছে কিংবা চাপ প্রয়োগ করে মামলা করিয়েছে এমন তথ্য শতভাগ মিথ্যা। অথচ খবরের শিরোনামে বলা হয়েছে ‘ অধ্যক্ষের পদ বাঁচাতে মামলা করতে বাধ্য হন তিনি ‘।
‘ আইনজীবীর মাধ্যমে ৭ই আগস্ট মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে একটি পক্ষ ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি চেষ্টা করে ; মামলার তথ্য প্রমাণ সংগ্রহে মনোযোগ দিতে পারে নি। সংবাদে পরিকল্পিতভাবে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে মামলা দায়ের করেছি, অথচ আইনজীবীরা অবগত আছে কখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তাছাড়া, আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আমি পদত্যাগ করি নি, সেটি জেলা প্রশাসন ওয়াকিবহাল আছেন। আমার পেশাগত জীবনকে এই মামলার সাথে জড়িয়ে খবর প্রকাশ করা পরোক্ষভাবে মামলা প্রত্যাহারের চাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। ‘
মামলার এজাহারে যে কয়জন সাংবাদিককে আসামী হিসেবে দেখানো হয়েছে সব কয়জন সাংবাদিককে আমি ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রয়েছেন। এছাড়া আসামীদের বেশ কয়েকজনকে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদ, আসামীদের ফেসবুক স্টাটাস, একাউন্ট ডিএ্যাকটিভ করে দেয়া, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে দেয়া বক্তব্য, সমাবেশের ভিডিও চিত্র বিশ্লেষণ করে পিবিআই নিশ্চয় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। আমি মনে করি, সাংবাদিকরা আইনের উর্ধ্বের কোন প্রজাতি নয় যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না।
মামলায় যাদের স্বাক্ষী করা হয়েছে প্রত্যেকেই ছাত্র আন্দোলনে আহত ব্যক্তি, তাদের দেয়া স্বাক্ষ্য প্রমাণে দোষী ও নিরপরাধ ব্যক্তি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
পেশাজীবি নেতার পরিচয়ে সংবাদে যাকে উদ্ধৃত করা হয়েছে তিনি নিজের উদ্দ্যেগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে প্রতিহত করার সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন। যার ভিডিও তিনি নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে ৫ই আগস্টের পর ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকারের দোসর হিসেবে দীর্ঘ ষোল বছর গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, সরকারের দালালি করেছেন এই সাংবাদিক নামধারী আওয়ামী লীগ নেতা।
তার সাথে আমার ফেব্রিকেটেট কথোপকথনের মাধ্যমে আমার করা ছাত্র ও গণহত্যার উষ্কানির অভিযোগের মামলাকে বিব্রত করা অসম্ভব। একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আমার মতো শিক্ষকের বন্ধু বলে প্রচার করে জনরোষ থেকে বাঁচার চেষ্টা করা অনৈতিক শুধু নয় অযৌক্তিকও বটে। কারণ চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্রের গুলিতেই চট্টগ্রামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এগারোটি সাধারণ প্রাণ গেছে।
আপনাদের সংবাদে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই মামলা তুলে নেবার কথা কিংবা বাদি হিসেবে আমি অনুতপ্ত হয়েছি বলে প্রচার করা হয়েছে ; যা মামলা তুলে নেবার হুমকিস্বরূপ।
আমি মনে করি, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, চট্টগ্রামের ২৮ জন বিতর্কিত সাংবাদিক, শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমার দায়ের করা মামলার তদন্তের আগে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সরকারী অর্থলুটকারী নগদের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের মালিকানাধীন নিউজ পোর্টাল ‘সি ভয়েস২৪’ পূর্বের মতো এখনো বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পেছনে কাজ করছে ।
সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী এই প্রতিবেদনে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একতরফা রসকষ মিশ্রিত মিথ্যা তথ্য সংযোগন করে আমার বাগ অধিকারহরন করা হয়েছে। মনগড়া শিরোনামে এমন সংবাদ পরিবেশন করে শিক্ষক হিসেবে আমাকে যেমন হেয় করা হয়েছে ; তেমনিভাবে সাংবাদিকতার নামে দালালির চিরচেনা সংস্কৃতির উদাহরণ তৈরি করা হয়েছে।
পরিশেষে বলতে চাই, ছাত্র জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে গণমাধ্যমকে কলঙ্কমুক্ত করতে ‘ দালালরা সাংবাদিকরা ছাড়ুন ‘।
হাসিনা মমতাজ,অধ্যক্ষ,ছায়েরা খাতুন কাদেরিয়া স্কুল এন্ড কলেজ

