জরিপের তথ্য তুলে ধরে তামিম বলেন, ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কর রিফান্ড পেতে সমস্যা হয় না। আর ৪৫ শতাংশ কর্মকর্তাকে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ঘুষ চাওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ কর দেন, তার ৫ শতাংশ ঘুষ দেওয়া বা অন্য খরচ হিসেবে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। এটা বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতিবাজ কর কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধ না করে শুধু কর হার পরিবর্তন করলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে সরকারকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শুধু প্রগ্রেসিভ কর কাঠামো কর ন্যায্যতার মাপকাঠি হতে পারে না। কর ন্যায্যতার ভেতরে কর হার যেমন রয়েছে; তেমনি কর ভিত্তি, কর ব্যয়, কর ফাঁকি ও কর প্রশাসন রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে করসংক্রান্ত যেকোনো আলোচনায় সব সময় কর হার প্রাধান্য পায়। প্রতিবছর বাজেট এলে আমরা দেখতে পাই, প্রেসার গ্রুপ কর কমানোর জন্য চাপ দেয়। এতে সরকারের কর নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য প্রায়ই বিচ্যুত এবং খোলস আকারে থেকে যায়, পরিণতিতে ভালো ফল নিয়ে আসে না।তিনি আরো বলেন, কর হার কমিয়ে দিয়েও কর ন্যায্যতা বাস্তবায়ন সম্ভব, যদি কর ফাঁকি রোধ করা যায় এবং কর প্রশাসন কাঠামোয় উন্নতি আনা যায়। একই সঙ্গে কর ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনা যায় এবং করভিত্তি বাড়ানো যায়।
বাংলাদেশের কর প্রণোদনা কাঠামো পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কর ব্যয় নিয়ে কখনোই অ্যাসেসমেন্ট করা হয়নি। যেই খাতকে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেই খাত আদৌ কী উপকারী হয়েছে? কারণ কর প্রণোদনা কখনোই বিনিয়োগের নিয়ামক হতে পারে না। একসময় রাজনৈতিক বিবেচনায় কয়েকটি খাতকে কর প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে এবং খাতভিত্তিক ঢালাওভাবে প্রণোদনা দেওয়া থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। শুধু নতুন শিল্পকে প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত যতগুলো দেশ এলডিসি উত্তরণ করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের কর ভিত্তি সবচেয়ে দুর্বল। অথচ কর প্রণোদনা দিতে দিতে সামাজিক খাত অবহেলিত থাকছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যে পর্যাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ করা যাচ্ছে না। শুধু কর ন্যায্যতা বা এলডিসি উত্তরণের অংশ হিসেবে নয়, সামগ্রিকভাবে এই কর কাঠামোর পরিবর্তন দরকার এবং সেটা খুব জটিল কিছু না। এ জন্য কিছু আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন দরকার
সূত্র :কালেরকণ্ঠ
ডেস্ক নিউজ/চট্টলা’২৪ হৃদয়