শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইন্টারপোল নীরব, জবাব নেই ভারতেরও

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী, মেয়র ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে বাংলাদেশ। তিন দফায় পাঠানো আবেদনের পরও এখনো ইন্টারপোল সেই নোটিশ জারি করেনি। এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির পাঁচ মাসেও কোনো জবাব মেলেনি।

বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) সূত্র জানায়, শেখ হাসিনাসহ এই ১২ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

তবে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে এখনো তাঁদের কারো নাম নেই। 
কারা আছেন এই তালিকায় : রেড নোটিশ চাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অপরাধের অভিযোগে রেড নোটিশ জারির আবেদনের পর তা কার্যকর হয়েছে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে সাধারণ মানুষ সেই তালিকা দেখতে না পাওয়ার কারণ হিসেবে ইন্টারপোলের অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তার নীতিমালার কথা উল্লেখ করা হয়।

ভারতের সাড়া নেই : ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনো প্রাপ্তি স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি।

বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। দুই দেশের মধ্যে বহিঃসমর্পণ চুক্তি চালু থাকলেও ভারতের এমন নীরবতা দৃষ্টান্তমূলক নয়।

যাঁদের নাম রেড নোটিশ তালিকায় : বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন, ফরিদপুরের নাইম খান, বগুড়ার কালা জাহাঙ্গীর, গাজীপুরের নূরুল ও মজনু, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরী, ঢাকার নুর চৌধুরী, নবী হোসাইন, তানভীর ইসলাম জয়, জিসান আহমেদ, তৌফিক আলম, প্রকাশ কুমার, জাফর আহমেদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, নাজমুল আনসার, শরীফুল হক ডালিম, খুলনার শরীফুল হোসাইন, চট্টগ্রামের আমিনুর রসুল, নেত্রকোনার আব্দুল জাব্বার, বরিশালের গোলাম ফারুক অভি, সুব্রত বাইন, মুন্সীগঞ্জের রফিকুল ইসলাম, খুলনার হারুন শেখ ও সুলতান, নরসিংদীর মোসলেম উদ্দিন খান, গাইবান্ধার চন্দন কুমার রায়, কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল, মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলাম, টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ, জামালপুরের আমানুল্লাহ, আতাউর রহমান, জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মো. হাছান আলী, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল জব্বার ও সৈয়দ মো. হোসেন। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অর্থপাচার, মানবপাচার, জালিয়াতি, নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে থাকা ৬৩ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৪৫ জনকে ফেরত চায় বাংলাদেশ।

ডেস্ক নিউজ/চট্টলা’২৪ হৃদয়

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য...

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী...