এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে অবস্থানের ঘোষণা দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, পলিটিক্যাল পার্টি অধ্যাদেশ- ১৯৭৮ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন- ২০০৯, এই দুটি আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল বরখাস্ত, সাময়িক অথবা আজীবন নিষিদ্ধের সুযোগ রয়েছে। তবে এখানে অনেকগুলো বিষয়ে বিতর্ক বা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া সন্ত্রাস দমন আইনেও এটি করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসানুল করিম বলেন, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ যেভাবে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল, সেভাবেই আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলছেন, এই আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সত্ত্বা যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর বলে সরকার মনে করে তাহলে ওই ব্যক্তি বা সত্ত্বাকে নিষিদ্ধ করতে পারে।
এসব আইনে কি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ সম্ভব?
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আইনের ধারার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, এটা বিতর্কযোগ্য বিষয়। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ব্যতিত- হলের সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ যে বিষয়গুলো ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে টিকবে না।
যদিও তিনি বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যাসহ নানা কারণে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ একেবারে যে নেই তা নয়। তবে আইন দিয়ে নিষিদ্ধ করার বিপরীতে তাদেরকে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে করেন তিনি।
তার মতে, এই প্রশ্নটি যতটা না আইনী তার থেকে বেশি রাজনৈতিক। কারণ একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলে কী হয়, সেটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগেই দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করায় তারা আরো বেশি সংগঠিত হয়েছিল। যার মাধ্যমে তারা এমন একটি ভূমিকা রেখেছে, যা তারা আগের ১৫ বছরে পারেনি।
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে তাদের আদর্শ নির্মূল করা সম্ভব হয় না বলেও মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে পুরনো রাজনৈতিক দল হওয়ায় তাদের যে নেতা সমর্থকরা দেশ ও দেশের বাইরে রয়েছে তারা বরং সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। নিষিদ্ধের এই রাজনীতির কারণে বরং আরেকটি সুযোগ তৈরী হবে তাদের জন্য।
তিনি বলছেন, জামায়াত ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে যখন আওয়ামী লীগ মরিয়া ছিল, তখন নতুন নাম নিয়ে দলটির কিছু অনুসারী আরেকটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে। নিষিদ্ধ করার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি উদ্যোগ। সাময়িক উত্তেজনার জন্য অনেকে মনে করছেন আওয়ামী লীগকে বিনাশ করতে এটাই একমাত্র পথ, কিন্তু আসলে তা ভুল।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আহসানুল করিম বলেন, পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স- ১৯৭৮ কিংবা সন্ত্রাস বিরোধী আইন- ২০০৯, এই দুটি আইনে প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক করার তেমন কোনো সুযোগ নেই, সরকারের ইচ্ছার বিষয়টিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে আইনগত কাঠামোয় বিষয়টির সুরাহা আদালতের মাধ্যমে হতে পারে। তবে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে জামায়াতের মতো একইভাবে নিষিদ্ধ করা হলে, নির্বাহী আদেশে এটি যথার্থ কিনা- সেই প্রশ্ন অতীতের মতো আবারো উঠবে।

