আসন্ন পবিত্র আশুরা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে তাজিয়া মিছিল অবশ্যই দিনের বেলায় সম্পন্ন করতে হবে, রাতের বেলায় কোনো ধরনের মিছিল বা সমাবেশ করা যাবে না, এবং তাজিয়া মিছিলে ছোরা, বল্লম, চাকু বা যে কোনো ধরনের অস্ত্র বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সভায় আরো জানানো হয়েছে, নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সাতটি তাজিয়া মিছিল বের হবে এবং তা নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করবে।
আজ সোমবার (৩০ জুন) দামপাড়াস্থ সিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মো. হুমায়ুন কবির। এই সময় তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সাতটি তাজিয়া মিছিল বের হয়ে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করবে। এই মিছিলগুলোকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষিত রাখতে পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় সিএমপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সেগুলো হলো—দিনের বেলায় তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন করা, রাতের বেলায় তাজিয়া মিছিল এবং রাস্তায় কোনো ধরনের সমাবেশ না করা। তাজিয়া মিছিলে ছোরা, বল্লম, চাকুসহ যেকোনো ধরনের অস্ত্র বহন না করা। নির্ধারিত সময়ে মিছিল শুরু ও শেষ করা এবং তাজিয়া মিছিলের রুট ও সময় সংক্ষিপ্ত করা। সিসি ক্যামেরার কভারেজ রয়েছে এমন রুটকে প্রাধান্য দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রুটে অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে সমন্বয় করা।
বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা রোধকল্পে তাজিয়া মিছিলে বহনকারী বাঁশ/ঝান্ডার দৈর্ঘ্য ১২ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং মিছিলে চলমান গাড়ি চলাচলকালে বৈদ্যুতিক টেলিফোন বা অন্যকোন তারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য “ঠ” আকৃতিকর আংটাযুক্ত বাঁশ সাথে রাখা। তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা যাতে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ না করে সে দিকে লক্ষ্য রাখা। পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে টাইগারপাস, নিউমার্কেট, লালদিঘীপাড়, কাজির দেউরী এলাকা ছাড়াও যে সমস্ত স্পটে খেলবেন তার তালিকা পূর্বেই সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে। তাজিয়া মিছিলে আতশবাজি/পটকা বহন ও ফোটানো থেকে বিরত থাকা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষে কোন উস্কানিমূলক বক্তব্য বা কার্যক্রম কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঢিল ছোড়া ইত্যাদি না করার জন্য তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদেরকে পূর্বেই ব্রিফিং করতে হবে।
এছাড়া তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা যাতে কোন ধরনের নাশকতা করতে না পারে সে ব্যাপারে সর্তক থাকা এবং এ ধরনের কোন সদস্য থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে অবহিত করতে বলা হয়েছে সিএমপির পক্ষ থেকে।
চট্টলা২৪/হহ