বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

পেকুয়ার শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফকে অপহরণ ও পরে পৈশাচিক নির্যাতন পূর্বক হত্যার অভিযোগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে চট্টগ্রামের মাদারবাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক করেছে র‍্যাব।

শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ইসলামিয়া কলেজ সংলগ্ন কমিশনার গলির একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের পেকুয়া হতে অপহরণের শিকার হন পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফ। পরবর্তীতে অপহৃতের মোবাইল থেকে কল করে স্বজনদের নিকট ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। ঘটনার পরপরই এ বিষয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে র‍্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও অপহৃতের স্বজনদের নিকট কল করে মুক্তিপণ দাবিকারী হিসেবে জাহাঙ্গীরকে শনাক্ত ও তার বিস্তারিত পরিচয় ও অবস্থানস্থল উদঘাটনে সমর্থ হয় সংস্থাটি।

অপহরণের ১৪ দিনের মাথায় গত শুক্রবার মো. আরিফের বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে বস্তাবন্দী গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এরআগে গ্রেপ্তারকৃত আরেক আসামী  রুবেলকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কক্সবাজারের পেকুয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছিলো র‍্যাব।

এদিকে,  খুনের শিকার শিক্ষক আরিফের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বিকেলে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর পুলিশ। এর পর সন্ধ্যার দিকে পেকুয়া সদরের স্টেডিয়াম মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দাবি করা হয়- পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমই শিক্ষক আরিফ হত্যাসহ লাশ গুমের মূল পরিকল্পনাকারী। তার একাধিক ভাইসহ সাঙ্গপাঙ্গোরাই জমির বিরোধ নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিক্ষককে অপহরণের পর চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের বাড়িতেই টর্চার সেলে রাখা হয়। সেখানে ঝুলিয়ে রেখে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে শিক্ষক আরিফেরই বাড়ির পুকুরে ফেলা হয়। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরদের বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ হত্যাকাণ্ডের নানা আলামত জব্দ করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

অপরদিকে শিক্ষক আরিফ হত্যার অভিযোগে আটক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর ও তার একাধিক ভাইয়ের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট শেষে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে এসব বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

স্বজনরা যা বলছেন
 
অপহরনের পর জীবিত উদ্ধারে ব্যর্থ হবার পুরো ঘটনার জন্য স্বজনরা পুলিশের অবহেলাকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর পরই পেকুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে ১ অক্টোবর মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এর জের ধরে নিহত আরিফের ফোনের লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল জাহাঙ্গীরের বাড়িতে। কিন্তু পুলিশ বার বার আরিফ স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গেছে মন্তব্য করে অভিযান করেনি। সেই বাড়িতে রক্তের দাগ এবং পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার বলে দিচ্ছে আরিফ ওই বাড়িতেই ছিল।
 
নিহত আরিফ পেকুয়া সদরের মাতব্বরপাড়ার মৃত বজল আহমদের ছেলে এবং পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন আমেরিকায় থাকার পর দেশে ফিরেই শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেন।
 
নিহতের বোন ইয়াছমিন আকতার জানান, এলাকায় আরিফের এক মাত্র প্রতিপক্ষ বা বিরোধ ছিল যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং তার ভাই যুবলীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আজগীরের সাথে। অপহরণের পর পর সাধারণ ডায়েরি মামলা দায়েরের পর আরিফের ফোনের লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পেকুয়া থানার পুলিশ বার বার এটাকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে বলে অবহেলা করেছে। বার বার অনুরোধের পরও জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযান চালায়নি। অথচ অভিযান চালালে আরিফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হত।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...