একদিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে অন্যদিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। অথচ এই দুই পবিত্র স্থানের মাঝখানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ।
একেতো দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা, অন্যদিকে আগুনে পোড়ানো হচ্ছে সেই বর্জ্য । এতে মহাসড়কসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ধোঁয়ায় ছেঁয়ে যায়। দূষিত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- ধর্মীয় উপসনালয়গুলো। আসা-যাওয়ার পথে ধোঁয়া আর দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয় পথচারীদের। এই দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
এটি চট্টগ্রাম এর হাটহাজারীর সরকারহাট এলাকার চিত্র। সরকার হাট বাজারের উত্তরপার্শ্বে মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, জামে মসজিদ ও জগন্নাথ আশ্রমের পাশেই এই ময়লার ভাগাড়। স্থানীয়দের অভিযোগ চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছে বাজার ইজারাদার ও বাজার কমিটি। কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি কোনো প্রতিকার। দোষারোপ করছে বাজার কমিটি ও ইজারাদার একে অপরকে।
মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান জানান, ভাগাড়ের দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অনেক অতিষ্ঠ, এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া ময়লা ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ধোঁয়ায় বায়ু দূষণ হয়। সেই বায়ুতে নিঃশ্বাস নিচ্ছি আমরা শিক্ষক শিক্ষার্থী সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। এই ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নিতে কতৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোন কোন সুরাহা পাইনি।
মির্জাপুর জগন্নাথ আশ্রম এর বিশ্বনাথ জানান, এই ভাগাড়ের সাথে লাগোয়া জায়গা আশ্রমের, স্তুপের কারণে এই জমি কোন কাজে ব্যবহার করতে পারছিনা। সাবেক ইউএনও এবিএম মশিউজ্জামান মহোদয় আমাদের মন্দির পরিদর্শনে আসলে বিষয়টা উনাকে জানিয়েছিলাম, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোন সমাধান পাইনি।
নিয়মিত পথচারী স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম বলেন, মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলে তা পোড়ানোয় আশপাশে আমরা যারা বসবাস করি তারা খুব বিপদে আছি। আমরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছি, শরীরে ব্যথা অনুভব করি সব সময়। পরিবেশ নষ্ট করা নিয়ে বাজার কমিটি ও ইজারাদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মুমিন জানান, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
জুনায়েদ/চট্টলা২৪

