চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন সরফভাটা ইউনিয়নের পাইতালিকুল এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে কুখ্যাত ইসমাইল বাহিনীর সেকেন্ড ইন কম্যান্ড সফি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। গতকাল গভীর রাতে পরিচালিত এ অভিযানে সফিকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী ইসমাইল বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গুনিয়া এলাকায় চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও খুনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। ২০০২ সালে বিএনপি কর্মী ভোলাসহ দু’জনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে এ বাহিনী। ২০০৪ সালে র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ ধরা পড়ে ইসমাইল ও তার সহযোগীরা। পরে ২০০৬ সালে ইসমাইল ও সফিসহ বাহিনীর কয়েকজন প্রবাসে পালিয়ে যায়।
৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর দেশে ফিরে ইসমাইল আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সে বিশাল অস্ত্রধারী বাহিনী গড়ে তোলে। এই বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা চালাত। চাঁদা না দিলে এলাকায় কেউ বসবাস বা নতুন ঘর নির্মাণ করতে পারছিল না। অনেক অসহায় মানুষ, বিশেষ করে প্রবাসীরা নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে বসবাসে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু গত ৫ আগস্টের পর থেকে সরফভাটা ইউনিয়নে ইসমাইল বাহিনী অন্তত ছয়জন নিরীহ মানুষকে খুন করেছে। ভয়ে ভুক্তভোগীরা মামলা পর্যন্ত করতে সাহস পাচ্ছে না।
অভিযানে সফির গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও মূল হোতা ইসমাইল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ইসমাইল ও তার বাহিনীর বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
জুনায়েদ/চট্টলা২৪

