বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খাগড়াছড়িতে অবরোধের মধ্যে বাইক ও বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ

খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে জুম্ম-ছাত্র জনতার ব্যানারে অবরোধ চলাকালে গুইমারায় মোটরসাইকেল, দোকানপাট ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে অবরোধকারীদের সরানোর চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও গুলতি মারে। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ কয়েকজন আহত হন।

জানা গেছে, গুইমারাতে ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা অবস্থায় অবরোধের সমর্থনে রাস্তায় পিকেটিংয়ের নামে নাশকতা করে অবরোধ সমর্থকরা। এ সময় তারা রামসু বাজার এলাকায় দোকানপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকায় অবরোধকারীদের সরাতে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কিছু লোক রামেসু বাজারে মোটরসাইকেল, দোকানপাট ও বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখনো পরিস্থিতি উত্তপ্ত।

তিনি বলেন, অবরোধের সমর্থনে পুরো গুইমারার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবস্থান নিয়েছে সমর্থকরা।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়। কিছুক্ষণ পর মধ্য রাতে আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আসে।

পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে জুম্ম-ছাত্র জনতা র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল (১৯) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে ছয় দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সম্প্রতি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আজ রবিবার খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, ‘নারী নির্যাতনকারী, ধর্ষণকারী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অপরাধ কখনোই প্রশ্রয় পাবে না।’

উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ‘ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আইনের ভিত্তিতেই প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের সমাজে অসহনশীলতা সৃষ্টি হোক, তা কখনোই কাম্য নয়।’

শিক্ষকদের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিভাবকদের নিজেকে, নিজের সন্তানকে ও সমাজকে ঠিক করতে হবে। সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অভিভাবকদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা সবাই অসাম্প্রদায়িক হতে চাই।’ এ জন্য বাঙালি-পাহাড়ি সব সম্প্রদায়কে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. খাদেমুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার, ছাত্রনেতা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় খাগড়াছড়ি মহাজনপাড়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

চৌধুরী, চট্টলা২৪

 

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...

চট্টগ্রামে বিয়ে শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নারীসহ নিহত ২

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার...