বেকারত্ব শুধু আর্থিক সংকট নয়- এটি মানসিক চাপ, পরিবার-সমাজের অদৃশ্য প্রশ্নবাণ, এবং নিজের ভেতরের অস্থিরতার এক অবসানহীন যুদ্ধ। সেই যুদ্ধটাই জেদ আর সাহস দিয়ে জিতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বাড্ডার এক শিক্ষিত তরুণ।
একসময় তিনি ছিলেন চাকরির খোঁজে দৌড়ানো হাজারো যুবকের মতোই- মনে স্বপ্ন, হাতে সার্টিফিকেট। হয়তো ভালো বেতনের চাকরির প্রতীক্ষায় দিন গুনতেন। কিন্তু সময় তাকে শেখায় বাস্তবতা। পরিবারের প্রয়োজন, জীবনের চাপ এবং বেকারত্বের তীব্র কষ্ট তাকে ভেঙে ফেলেনি; বরং দাঁড় করিয়েছে নিজের পথ তৈরি করার শক্তিতে।
মেরুল বাড্ডা থানার সামনে দেখা মিলল সেই তরুণের- স্মার্ট, ভদ্র, শিক্ষিত। পোশাকে রুচি, কথায় বিনয়। কিন্তু তাঁর চোখেই ধরা পড়ে এক ধরনের ব্যথা, একটি সামাজিক অস্বস্তি, হয়তো লজ্জা। তবু সেই চোখেই রয়েছে অদম্য জেদ, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অপরাজেয় সিদ্ধান্ত।
হাজার টাকা পুঁজি। মাত্র এতটুকু নিয়েই তিনি শুরু করেছেন ডিম বিক্রির ক্ষুদ্র ব্যবসা- একটি স্ট্যান্ড, কিছু ট্রে আর নিজের পরিশ্রম। সমাজের দৃষ্টিতে কাজটি হয়তো তুচ্ছ। কেউ দেখে হয়তো খাটো করে, কেউ ভাবে “শিক্ষিত লোক ডিম বিক্রি করছে!” কিন্তু তিনি জানেন, সম্মানের মাপকাঠি কাজ নয় কাজের প্রতি সততা এবং নিজের দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য।
দিন শেষে একটি কথা বারবার সত্য হয়ে ওঠে,
লাখ টাকার বেতনের চাকরি মানুষকে হয়তো নিরাপত্তা দেয়, কিন্তু নিজের ঘাম ঝড়িয়ে উপার্জিত সামান্য টাকা মানুষকে দেয় আত্মসম্মান।
এই তরুণ সেই আত্মসম্মানের মূল্য বুঝেছেন। প্রতিদিন রোদে-গরমে দাঁড়িয়ে হয়তো কষ্ট করেন, হয়তো লজ্জা পান পরিচিত কারও সামনে পড়লে। কিন্তু প্রতিদিন তিনি তৈরি করছেন নিজের পথ- নিজের ছোট্ট আয়ের উপর দাঁড়ানো দৃঢ় ভবিষ্যত।
তাঁর গল্প আমাদের শেখায়- স্বাবলম্বিতা ছোট নয়, কাজ ছোট নয়, ছোটতা শুধু সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে, যে কাজকে দিয়ে মানুষের মান-সম্মান মাপতে চায়।
ফারুক, চট্টলা২৪

