সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত ১৬ বছর অস্বচ্ছ ও পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র এই প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ফলেই একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এ দেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশা অনেক। এই প্রত্যাশা পূরণের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা শুধু দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম, ব্যালটবাক্স ছিনতাই কিংবা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারসহ জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে একটি ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ এ সেলে জানানো যাবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা থাকবেন এবং মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান এবং তথ্য সংগ্রহে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনগণ উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
ফারুক, চট্টলা২৪

