বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কয়ছর আহমেদের নামে অপপ্রচার

নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর- শান্তিগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী কয়ছর আহমেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে মনোনয়ন সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

‘মিরর নিউজ’ ও ‘এশিয়া পোস্ট’ নামের দুটি অনলাইন পোর্টালে একই শিরোনামে- ‘৩ কোটিতে বিএনপির মনোনয়ন চুক্তি, ৬৫ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ’- সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরে সিলেটের কয়েকটি নামসর্বস্ব আঞ্চলিক পোর্টালে তা পুনঃপ্রকাশ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিরর নিউজ নামের পোর্টালটিতে সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক কিংবা বার্তা বিভাগে যুক্ত কোনো সাংবাদিকের নাম উল্লেখ নেই। সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো শূন্য রয়েছে। ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের কাছেও এই পোর্টাল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের সময় ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভুল তথ্যের মাধ্যমে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়, আর বিভ্রান্তিকর তথ্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেটের গতি কমানো বা গোপন ব্যবস্থা নেওয়ার পথে যেতে চায় না কমিশন। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে অবমাননাকর, আপত্তিকর ও ভুল তথ্য অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদে রাজশাহীর এক ব্যক্তির সঙ্গে তিন কোটি টাকার চুক্তিতে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার শর্তে ৬৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কোনো বিশ্বস্ত সূত্রের উল্লেখ ছাড়াই এমন অভিযোগ উপস্থাপন করায় সংশ্লিষ্ট মহল একে ভিত্তিহীন অপপ্রচার হিসেবে চিহ্নিত করছেন। ভোটের মাঠে চাঞ্চল্য তৈরির উদ্দেশ্যে এমন চমকপ্রদ অভিযোগ আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়ছর আহমেদ দীর্ঘ দুই যুগ ধরে যুক্তরাজ্যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূল রাজনীতি থেকেই তার উত্থান। যে আসনে তিনি বিএনপির প্রার্থী, সেই জগন্নাথপুর উপজেলায় ছাত্রদলের মাধ্যমে তিন দশক আগে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। তিনি তিন মেয়াদে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। মনোনয়ন সংক্রান্ত অপপ্রচারের মাধ্যমে সেই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে কয়ছর আহমেদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে মনগড়া তথ্য প্রকাশের ঘটনায় তার অনুসারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করে টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। দুই ব্যক্তির কথোপকথনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার নাম জড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে। সংবাদটির ভাষা ও উপস্থাপন দেখলেই বোঝা যায় এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন দেখে পরাজয়ের আশঙ্কায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা থাকবে- কিন্তু প্রতিহিংসা ও অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়। জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের ভোটারদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মানহানির মামলা করা হবে বলেও জানান বিএনপির এই প্রার্থী।

ফারুক, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...