সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস-এ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে, যেখানে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা।
শুক্রবার সংঘটিত এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় ঘাঁটির কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বর্তমানে সৌদি আরবে ২,৩২১ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ঘাঁটি থেকে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি, থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয় পরিচালিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বিরোধ চলমান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা ২১ দিনের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র “অপারেশন এপিক ফিউরি” এবং ইসরায়েল “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” শুরু করে। ওই অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান পাল্টা হামলা হিসেবে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর মধ্যে সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের ঘাঁটিগুলো রয়েছে।
এর আগে ১ মার্চ একই ঘাঁটিতে হামলায় আহত মার্কিন সেনা সার্জেন্ট বেনজামিন এন. পেনিংটন (২৬) পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সেন্টকম জানিয়েছে, গত এক মাস ধরে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
ফারুক, চট্টলা২৪

