খেলোয়াড়দের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়েই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না। দেশে-বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখবেন।’ তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও টিম স্পিরিট থাকলে খেলোয়াড়দের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া আর শুধু শখ বা বিনোদন নয়, এটি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত পেশা। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের পছন্দের খেলাকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন এবং আর্থিক অনিশ্চয়তায় না ভোগেন, সে লক্ষ্যে সরকার তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ প্রতিপাদ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্রীড়াবিদদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি শুরু হবে। পাশাপাশি সারা দেশে নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেওয়া হয় এবং সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেকের মোবাইলে এক লাখ টাকা করে ভাতা পৌঁছে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক, চট্টলা২৪

