ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া চলমান যুদ্ধ পরিস্থির মাঝে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আজ চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরেছেন ১১ জন প্রবাসী। আজ ২ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮:৪৫ এ ফ্লাই দুবাই এর একটি ফ্লাইটযোগে তারা ফেরেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থির মাঝেই আইন প্রয়োগকরী সংস্থা ঈদের আগে তাদের আটক করে। পরে কয়েকদিন জেলে রেখে আউটপাস নিয়ে আজ তারা দেশে ফিরেন। চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যরা পরে তাদের জরুরি সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে ব্র্যাকের সার্ভিস বুথে তাঁদের পাঠানো হলে ৯ জনকে জরুরী অর্থ ও খাবার পানিসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।
বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের মধ্যে চট্টগ্রামের মোহাম্মাদ তসলিম উদ্দীন বলেন, “আমাদের বৈধ কাগজপত্র ছিলো না। আকামা ছিল না। কিন্তু জীবন জীবিকার সন্ধানে তো বের হতে হয়। তখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে জেল থেকে ফেরত পাঠায়।”
ফের আসা আরেকজন আব্দুস সাত্তার বলেন, দুবাই জেলে ছিলেন ১০ দিন। জেলে ঠিকমত তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো না। প্রয়োজনীয় ঔষুধ কিংবা জরুরী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো না কর্তৃপক্ষ। ছোট্ট একটা ঘরে অনেকজন করে রাখতো।
ফেরত আসার জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা অনেকের কাজ নেই। আবার অনেককে আনার পর চুক্তিভিত্তিক কিছুদিন কাজ দেয় কিন্তু তাঁদের পাসপোর্ট ও অন্যন্য কাগজপত্র জব্দ করে। পরে কোম্পানি বা মালিক তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দিয়ে প্রতারনা করে এবং পালিয়ে যায়। দেশে ঋণের বোঝা অন্যদিকে বৈধ কাগজছাড়া বিদেশে কাজ না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পরতে হয় প্রবাসীদের। অন্য কোথাও কাজের সন্ধানে বের হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভয়ে থাকতে হয়। অনেক ধরা পড়ে জেলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সংকট বেড়েছে।
বিদেশ-ফেরত এমন অভিবাসীদের সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরী সহায়তা কার্জক্রম পরিচালনা করে আসছে। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৫১ জন বিদেশ ফেরতকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ফারুক, চট্টলা২৪

