নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া ছয় জন ব্যতিক্রমী মানুষকে এম-রাইজ হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ ‘এম-রাইজ গালা নাইট’-এ হিরোদের জীবনভিত্তিক ডকুমেন্টারি, হিরো রিভিল ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন দেশের জনপ্রিয় মেগাস্টার শাকিব খান। চলচ্চিত্রের পর্দার হিরোর হাত থেকে সমাজের বাস্তব জীবনের হিরোরা গ্রহণ করেন এই বিশেষ সম্মাননা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবুল খায়ের গ্রুপের গ্রুপ হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ।
সম্মানিত হিরোদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের প্রযুক্তি উদ্ভাবক জয় বড়ুয়া লাবলু, যিনি স্বল্প খরচে বায়োনিক হাত তৈরি করে প্রতিবন্ধী মানুষদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন। কক্সবাজারের মো. রোস্তম আলী ‘মা-বাবা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে অবহেলিত বৃদ্ধ ও এতিম শিশুদের আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছেন। একই জেলার মরিয়ম সমুদ্রশৈবাল চাষ করে উপকূলীয় নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতায় ভূমিকা রাখছেন। চট্টগ্রামের মো. রিজওয়ান ‘এক টাকায় শিক্ষা’ উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছেন। ঢাকার মো. আবদুল কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে পথপ্রাণী উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবায় কাজ করছেন। আর প্রসেনজিৎ কুমার সাহা ‘উচ্ছ্বাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসচেতনতায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে বায়োনিক হাত উদ্ভাবক জয় বড়ুয়া লাবলু বলেন, প্রযুক্তি শুধু উদ্ভাবনের জন্য নয়, মানুষের জীবন সহজ ও সুন্দর করার জন্য হওয়া উচিত। মানুষের মুখে হাসি দেখার অনুভূতিই আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। মা-বাবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা মো. রোস্তম আলী বলেন, দেশের আরও মানুষ মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে এগিয়ে আসুক — এটাই আমার চাওয়া।
সম্মাননা প্রদান করে অভিনেতা শাকিব খান বলেন, যারা সমাজের ভেতরে থেকে নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের স্বীকৃতি শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। আবুল খায়ের গ্রুপের গ্রুপ হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করে আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়ার অনুপ্রেরণা থেকেই ‘এম-রাইজ’ উদ্যোগের জন্ম। এটি কেবল একটি সম্মাননা আসর নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা মানুষদের গল্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আবুল খায়ের গ্রুপের পদস্থ কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও শতাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর উপস্থিত ছিলেন।
সাব্বির/চট্টলা২৪

