বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

ডিজিটাল আইপিও ও বন্ড মার্কেট উন্নয়নে বাজেটকে সাহসী পদক্ষেপ বলছে সিএসই

দেশের পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন, গভীরতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)।

রোববার (১৪ জুন) চট্টগ্রামস্থ প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে ছয় দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে দেশের এই শীর্ষ পুঁজিবাজার।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নীতিকৌশল বাজেট কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা সিএসইর দীর্ঘদিনের প্রস্তাবনার প্রতিফলন। তিনি বলেন, “সরকার পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী মূলধন সংগ্রহ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।”

সিএসইর পক্ষ থেকে বাজেটের পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেশে স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর কমোডিটি মার্কেট গড়ে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিএসই জানায়, তাদের কারিগরি ও ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি সম্পন্ন। আরইআইটিএস, ইটিএফএস, ইনডেক্স এবং কারেন্সি হেজিং ইনস্ট্রুমেন্টের সম্ভাবনা পর্যালোচনার উদ্যোগকে সিএসই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এছাড়া আইপিও প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা এবং ইস্যুকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে একীভূত প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনাকে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি টি+২ থেকে ধাপে ধাপে টি+০ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাকে বাজারের তারল্য বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে মনে করছে সিএসই। বন্ড মার্কেট উন্নয়ন এবং পেনশন ফান্ড ও বীমা কোম্পানির অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উদ্যোগ পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে সিএসই। তারা আধুনিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ স্থাপনের লক্ষ্যে সিএসইর কমোডিটি সেগমেন্টকে আগামী ৫ বছরের জন্য কর অবকাশ প্রদানের অনুরোধ জানায়। পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর হার ব্যবধান ৭.৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করার দাবি জানানো হয়েছে। প্রণোদনা হিসেবে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির আয় তিন বছর করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করতে টেকনিক্যাল সেবার ওপর উৎসে কর ১০% এবং সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্সের ওপর মূসক ৫%-এ নামিয়ে আনার আহ্বান জানায় তারা। কর্পোরেট বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং জিরো কুপন বন্ডের ওপর বিদ্যমান কর অব্যাহতি পুনর্বহাল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর আগের মতোই ২০% হারে কর রাখার প্রস্তাব।

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ইলেকট্রনিক্সসহ পতেঙ্গায় দুই চোরাকারবারি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাজারজাতের...

মিরসরাইয়ে পাহাড় ধসে কিশোর নিহত, আহত ১

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় পাহাড়ের মাটি কাটতে গিয়ে ধসের ঘটনায়...

পাঁচলাইশে দুর্ধর্ষ চুরির রহস্য উদ্ঘাটন, চোরচক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার...

হজযাত্রীদের স্বস্তি দিতে খরচ কমানোর উদ্যোগ, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র হজ পালনের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য আরও...