রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে শুনানি পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি মামলায় অভিজ্ঞ একজন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বর্তমানে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের করা জেল আপিল শুনানির জন্য মামলাটি ওই বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রয়োজনীয় পেপার বুক প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে প্রস্তুত করা পেপার বুক সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এই কার্যক্রম শেষ হলেই মামলাটির শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদন এবং আসামিদের জেল আপিলের ওপর শুনানি শুরু হওয়ার আগে আদালত নিশ্চিত করতে চায় যে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যথাযথ আইনি সহায়তা পাচ্ছেন। সে কারণেই তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে একজন দক্ষ ফৌজদারি আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারিক আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। নিম্ন আদালতের সেই রায় কার্যকর হওয়ার আগে আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিলও দায়ের করেছেন।
সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হওয়ায়, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে যেকোনো দিন শুনানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

