শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, টেকনাফে বিশেষ জোন ও সীমান্তে নজরদারি জোরদার

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ অঞ্চলে বিশেষ জোন স্থাপন এবং সীমান্তপথে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‍্যাব এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেছেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। এটি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী মাদক অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদক উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও সেবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনটি যুগোপযোগী করতে সংশোধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন—এই তিন খাতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ৪টি সরকারি এবং ৩৮৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, তরুণদের মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে কার্যকর মাদক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। তিনি মাদক পাচার রোধে সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিকতার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে।

আগামী ২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করবে ডিএনসি। বিশিষ্টজনদের মতে, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনে দেশের যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মাদক প্রতিরোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সকল স্তরের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

সাব্বির, চট্টলা২৪

সর্বশেষ

আরও পড়ুন
বিষয়

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে বৃদ্ধের ২০ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালির অভিযোগে মনজুর আলম (৬৫) নামে...

সড়ক নিরাপত্তায় হাটহাজারীর স্কুলছাত্রীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

চট্টগ্রামে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে...

শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম...