জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে এ বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন তিনি।
স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে আগে সভাপতির প্রতি ‘ঝুঁকিয়া’ সম্মান প্রদর্শনের বিধান ছিল। তবে ২০০৬ সালে বিধি সংশোধনের মাধ্যমে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭(১) অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ বা কক্ষ ত্যাগের সময় এবং আসন গ্রহণ বা ত্যাগের সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। তবে বর্তমানে বিধিতে সম্মান প্রদর্শনের ধরন নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই।
স্পিকার বলেন, “যেহেতু ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় সদস্যবৃন্দ আপনারা যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।”
সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা শুরু হয়। গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে এ বিষয়ে আপত্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি বিধিতে আগে এ বিধান থাকলেও পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়েছে। তখন স্পিকার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন।
এরপর বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকও বিষয়টির সুরাহা চেয়ে বক্তব্য দেন।
আজ সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে স্পিকার আরও বলেন, ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয় এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সংসদে তা গৃহীত হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বিধি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এর ফলে এখন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী স্পিকার বা সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।
সাব্বির, চট্টলা২৪

