ওয়াশিংটন, ২৭ জুন: ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে মার্কিন বিচার বিভাগকে (ডিওজে) নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক।
শুক্রবার দেওয়া এক আদেশে ব্রুকলিনভিত্তিক মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ নিকোলাস গারাউফিস বলেন, মামলাটি প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারি আইনজীবীদের দেওয়া নোটিশে সিদ্ধান্তের পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা নেই। তিনি আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত বুধবার গৌতম আদানির আইনজীবীরা আদালতের কাছে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করার আবেদন করেন। তবে আদালত মনে করেন, সরকারের সংক্ষিপ্ত ও একপক্ষীয় বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
রায়ে বিচারক গারাউফিস লিখেছেন, সরকারের দেওয়া ব্যাখ্যা আদালতকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট ভিত্তি দেয় না এবং মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদনের যথাযথ বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগও তৈরি করে না।
আদানির আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা আদালতে যুক্তি দেন, মামলাটি মার্কিন আইনের এখতিয়ারের বাইরে। পাশাপাশি ভারতে কথিত ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও সরকারি আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারবেন না বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর গত মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৭তম ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানি। ২০২৪ সালে ভারতের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী নীতি সম্পর্কে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।
মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে আসে, যখন আদানি তাঁর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন রবার্ট জিউফ্রাকে, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদেরও একজন।
এ ছাড়া জিউফ্রার আইনি দলের সদস্য জেমস ম্যাকডোনাল্ডকে ট্রাম্প প্রশাসন ম্যানহাটানের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে মনোনীত করেছে। গত মাসে আদানির পক্ষে অনুকূল সিদ্ধান্ত পাওয়া আইনি দলেও ছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ই বিচার বিভাগ প্রথম এ মামলাটি দায়ের করেছিল।
এদিকে চলতি সপ্তাহে ব্লুমবার্গ নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগের তদন্ত চলাকালে গত নভেম্বরে গৌতম আদানি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাব্বির, চট্টলা২৪

