একপেশে আধিপত্য দেখিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। আগেই ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করা লিওনেল স্কালোনির দল এবার জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে। ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
প্রথমার্ধেই জিওভান্নি লো সেলসো ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে জর্ডান একটি গোল শোধ দিলেও বদলি হিসেবে নেমে দারুণ এক ফ্রি-কিকে দলের তৃতীয় গোল করেন মেসি।
রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই নতুন ইতিহাস গড়ছেন মেসি। আগের ম্যাচেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেওয়া এই আর্জেন্টাইন তারকা এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে গেলেন।
সবচেয়ে বড় অর্জন, বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জেয়ারজিনহো টানা ছয় ম্যাচে গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। মেসি তাদের ছাড়িয়ে এককভাবে নতুন ইতিহাস লিখলেন।
এ ছাড়া চলতি আসরে এটি তার ষষ্ঠ গোল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও আরও এগিয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচজুড়ে ছিল আর্জেন্টিনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। ৭৪ শতাংশ বলের দখল রেখে ১১টি শট নেয় স্কালোনির দল, যার তিনটিই ছিল লক্ষ্যে এবং সেগুলো থেকেই আসে তিন গোল। অন্যদিকে জর্ডান চারটি শটের মধ্যে মাত্র একটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যা থেকে আসে তাদের একমাত্র গোল।
নকআউট পর্বের কথা মাথায় রেখে ডালাস স্টেডিয়ামে একাদশে নয়টি পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবু শুরু থেকেই জর্ডানের রক্ষণে চাপ তৈরি করে আর্জেন্টিনা।
১৯তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল আদায় করে আর্জেন্টিনা। সেই ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন জিওভান্নি লো সেলসো।
৩০তম মিনিটে নিকোলাস তালিয়াফিকোর নিচু ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেজের শট এবং ফিরতি বলে হুলিয়ান আলভারেজের হেড—দুটিই দুর্দান্তভাবে ঠেকান গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লায়লা। তবে আলভারেজকে বুট দিয়ে আঘাত করায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট-কিক থেকে চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন লাউতারো, আর ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টিনার দাপট অব্যাহত থাকে। তবে ৫৫তম মিনিটে দারুণ দলীয় আক্রমণ থেকে ব্যবধান কমায় জর্ডান। এহসান হাদ্দাদের বাড়ানো বল নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে জড়ান আল তামারি।
এর পাঁচ মিনিট পর মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। ৮০তম মিনিটে বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত নিচু শটে জর্ডানের রক্ষণপ্রাচীর ভেদ করে বল জালে পাঠান তিনি। পরিকল্পিতভাবে সতীর্থরা দেয়ালের সামনে অবস্থান নিয়ে কোণ তৈরি করলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করা দলগুলোর তালিকায় আর্জেন্টিনার সঙ্গে রয়েছে ফ্রান্স ও মেক্সিকোও।

