দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেবল একটি বাজেট পাস করা নয়; বরং অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা, যা হবে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।
সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৮তম কার্যদিবসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সংসদ দেশের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে ভবিষ্যতের চেয়ে অতীত নিয়েই বেশি আলোচনা করেছি। কিন্তু জনগণ চায় আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী। এটি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, বাজেটে ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের পর বাজারে পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বহুমাত্রিক সংকট সরকার অস্বীকার করছে না, তবে সেই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় না।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটেই সরকার সংসদে এসেছে এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে, যার দায় জনগণকে দীর্ঘদিন বহন করতে হবে।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, এবারের বাজেট কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার একটি রূপরেখা। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এ বাজেটের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

