মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব পণ্য সহজলভ্য থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি খাদ্য বা জরুরি পণ্য গোপনে সংরক্ষণ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তবে সেই কাজকে মজুতদারি বলা হয়।
ব্যবসা-বাণিজ্য বৈধ ও উৎসাহিত হলেও মানুষের দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যবসার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা, সংকট সৃষ্টি করে তাদের ভোগান্তি বাড়ানো নয়।
মজুতদারি কেন নিন্দনীয়
যখন কোনো ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে প্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে না ছেড়ে দাম বাড়ার অপেক্ষা করেন, তখন তিনি সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ান। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে এবং বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়। এ ধরনের কাজকে হাদিসে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মজুতদারি করে, সে পাপী।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬০৫)
মজুতদারির পরিণতি
মজুতদারির মাধ্যমে কেউ সাময়িকভাবে বেশি লাভ করতে পারলেও এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত তার নিজের জীবনেও পড়তে পারে। অন্যায় উপার্জন, মানুষের অভিশাপ এবং সামাজিক ক্ষোভের কারণে অনেকেই ব্যবসায়িক সুনাম, সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক স্থিতি হারিয়ে ফেলেন।
এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি মুসলমানদের কষ্টে ফেলে খাদ্যপণ্য মজুত করে রাখে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ ও দারিদ্র্যের মাধ্যমে শাস্তি দেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১৫৫)
অতএব, মজুতদারি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী। ন্যায্য ব্যবসা, সৎ উপার্জন এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই একজন ব্যবসায়ীর প্রকৃত দায়িত্ব।
সোহাইল,চট্রলা২৪

